সাইকো কিলার
পর্ব ০১
সাইকো কিলার

পর্ব:০১
লেখক:অনিক
রাত ৮টা বিছানায় শুয়ে শুয়ে প্রেমিকার সাথে চ্যাটিং করছে অনিক। হঠাৎ করে ফাইজা পেছন থেকে এসে ডাক দিয়ে বলে ভাইয়া তাড়াতাড়ি আসো,দেখো টিভিতে তমা আপুর কাটা মাথা দেখাচ্ছে। কি? তমার কাটা মাথা? মানে কি? এক লাফ দিয়ে বিছানা থেকে উঠে টিভির সামনে গেলো অনিক। সময় টিভিতে ব্রেকিং নিউজ চলছে,এক অজ্ঞাত তরণীর কাটা মাথা পাওয়া গেছে ময়মনসিংহ ব্রিজের বাস টার্মিনালের পাশে। যখন ক্যামেরা কাটা মাথার উপর ধরা হলো অনিক দেখে এটা তমার মাথা। মাথা থেকে চুল গুলো উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে গালের ভেতর আর মাথার উপর দিয়ে রড ডুকানো,চোখগুলোও উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে।অনিক টিভির দিকে তাকিয়ে আছে। ফাইজা তাকিয়ে বলে ভাইয়া তমা আপুর এমন অবস্থা কে করলো? অনিক বলে জানি না তবে আমার এখনি বের হতে হবে। কালো স্যুট কালো প্যান্ট পড়ে, কালো চশমা'টা পকেটে আর পিস্তলটা কমরে গুজে, বাইক স্টার্ট দিয়ে থানার দিকে যেতে থাকলো অনিক।
অনিক থানায় যাচ্ছে,ময়লা কান্দির ওইখানে অনিকের বাইকের আলো পরে একটা মাইক্রোবাসের উপর। কেউ মাইক্রোবাস থেকে একটা বস্তা ফেলে দিয়ে অনেক দ্রুত গাড়ি চালিয়ে চলে গেলো। অনিক দ্রুত বাইক চালিয়ে ওই বস্তার কাছে গিয়ে,বস্তা খুলে দেখে বস্তায় কোনো মেয়ের কাটা হাত পা আর মাথার চুল। অনিক বস্তাটা ওইখানে রেখে পুলিশের সিনিয়র অফিসার তাহমিদ'কে কল করে আসতে বলে। তাহমিদ টিম নিয়ে এখানে আসে বস্তা খুলে কাটা হাত পা আর শরীরের বাকি অংশ বের করে আনে। মনে হচ্ছে এটা তমার দেহের বাকি অংশ। তাহমিদ অনিক'কে জিজ্ঞেস করে,তো গোয়েন্দা সাহেব কেস কি এটা আপনি নিয়েছেন? অনিক বলে এখনো না,যে মেয়েটার কাটা মাথা পাওয়া গেছে সে আমার প্রতিবেশী। একটা প্রাইভেট কোম্পানিতে জব করে। খুব ভালো মেয়ে, এই কেস নিয়ে কথা বলার জন্য থানায় যাচ্ছিলাম আর এখানে একটা মাইক্রোবাস থেকে কেউ বস্তাটা ফালায়।আমি আসতে আসতে গাড়ি চলে যায় বস্তা খুলে দেখি এই অবস্থা।হয়তো এটা তমার ই বডির বাকি অংশ। তাহমিদ বলে তা ময়নাতদন্তের পর জানা যাবে। যাইহোক আপনি যেহেতু কেসের সাথে আছেন আশা করি কেস তাড়াতাড়ি সলভ হবে। এখন থানায় চলুন কেস নিয়ে কিছু কথা আছে সব থানার এস আই আসবে আপনিও চলেন। তাহমিদের কথায় অনিকও হ্যাঁ সম্মতি দিয়ে যেতে থাকে থানার দিকে।

ময়মনসিংহ ব্রিজের কাছে আসতেই আবার তাহমিদের নাম্বারে আরেকটা কল আসে,জয়নুল আবেদীন পার্কে এক মেয়ের কাটা মাথা পাওয়া গেছে। তাহমিদ গাড়ি থামিয়ে অনিক'কে বলে আবারও জয়নুল আবেদীন পার্কে আরেকটা মেয়ের কাটা মাথা পাওয়া গেছে ওইখানে যেতে হবে। ওরা চলে যায় জয়নুল আবেদীন পার্ক ১৮-২০ বছর বয়সী একটা মেয়ের মাথা হবে এটা সেম একই ভাবে মাথা'টা কাটা হয়েছে। চোখ গুলো উঠিয়ে নিছে, মাথায় চুল নেই গালে এবং মাথায় রড ডুকানো। এইটা দেখতে দেখতেই আবারও আরেকটা ফোন আসে এইবার নাহা রোডে আরেকটা কাটা মাথা পাওয়া গেছে।ওরা চলে যায় নাহা রোড এটাও একই ভাবে কাটা হয়েছে,এইভাবে পুরো ময়মনসিংহে এক রাতে প্রায় ২৩টা মেয়ের কাটা মাথা পাওয়া যায়। এইবার পুলিশের উপর প্রেসার বাড়তে থাকে। এক রাতে এতোগুলো খু'ন রাত ২টা থানায় জরুরি মিটিং ময়মনসিংহ জেলার মাঝে যত থানা আছে সবগুলো থানার অফিসার কে আনা হয়েছে মিটিং এ

একটা রুম,রুমের প্রতিটা দেওয়ালে রক্তের ছিটা। চেয়ারে বাধা অবস্থায় নিরা।কেউ সাউন্ড বক্সে উচ্চ শব্দে কিছু ভয়ংকর গান বাজাচ্ছে।নিরা ধীরে ধীরে চোখ খুলে দেখতে পায় কেউ ওর সামনে চাকু নিয়ে বসে আছে। নিরা চোখ খুলতেই গান বন্ধ হয়ে যায় নিরার সামনের লোক'টা জোড়ে জোড়ে হাসতে থাকে। নিরা কিছুটা ভয় পেয়ে জিজ্ঞেস করে কে তুমি? আমাকে এখানে বেধে রেখেছো কেনো? লোকটা কিছু না বলেই একটা সুটকেস খুলে ওইটার ভেতর থেকে একটা প্লাস বের করে,নিরার হাতের আঙ্গুল থেকে নখ উঠানো শুরু করে। ব্যথায় চিৎকার করতে থাকে নিরা। নিরার চিৎকার শুনে আরো জোড়ে হাসতে থাকে লোক'টা।তারপর চাকু দিয়ে নিরার হাতের চামরার ভেতরে ডুকিয়ে নিরার চামড়া ছিলতে থাকে। কষ্টে ছটফট করতে থাকে নিরা।তারপর হাতে থাকা চাকুটা দিয়ে নিরার চোখে ডুকিয়ে,নিরার একটা চোখ উঠিয়ে নেয়।নিরা চিৎকার করতে করতে ক্লান্ত হয়ে যায়। সারা শরীর জ্বলে যাচ্ছে। লোকটা এইবার একটা বড় চাকু বের করে নিরার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে নিরা এক চোখ দিয়ে তাকিয়ে দেখছে। চিৎকারও দিতে পারছে না নিরা। চাকু দিয়ে এক কো'পে নিরার পা গুলো আলাদা করে ফেলে।নিরা জোড়ে চিৎকার দিয়ে অজ্ঞান হয়ে যায়। লোকটা আবার নিরার জ্ঞান ফিরায়। নিরা যন্ত্রণায় ছটফট করছে এক চোখ দিয়ে দেখতে পাচ্ছে। লোকটা আবার কো'প নিরার হাত গুলো কেটে নেয়।ওইসব একটা ফুটন্ত পানিতে সিদ্ধ করে। বিভিন্ন মশলা দিয়ে রান্না করে।লোকটা আবার নিরার কাছে আসে।নিরার মুখে চাপ দিয়ে নিরার জ্বিব বের করে আনে। একটা চাকু দিয়ে নিরার জ্বিবে পোচ দিতে থাকে।নিরার কাটা জ্বিবে লবণ লাগিয়ে দেয় নিরার শরীরে কোনো শক্তি নেই। এক চোখ দিয়ে শুধু পানি গড়িয়ে পড়ছে আর নিরা গংরাচ্ছে। নিরার হাত আর পা দিয়ে রান্না করা মাংস নিয়ার মুখে ডুকিয়ে দেয়।নিরা আবার জ্ঞান হারায়।কিছুক্ষণ পর লোকটা আবারও নিরার জ্ঞান ফিরায়। নিরা লোকটার দিকে তাকায় আর লোকটা এক কো'পে নিরার শরীর থেকে মাথা আলাদা করে ফেলে।
অনিকের নাম্বারে একটা আননোন নাম্বার থেকে কল আসে। হ্যালো আপনি কি অনিক বলছেন? তাড়াতাড়ি ময়মনসিংহ হাসপাতালে আসেন আপনার বোন.......কল কেটে যায়। থানা থেকে দ্রুত হাসপাতালের দিকে যেতে থাকে অনিক
চলবে?
0 Comments